কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আলিম কে?

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি।

যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। যিনি বলেছেন, “তোমরা যদি না জানো, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো।” [সূরাহ নাহল: ৪৩]

দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। যিনি বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে যে ‘ইলম দান করেছেন তা তোমাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো তুলে নেবেন না। বরং ‘আলিম-‘উলামা তুলে নিয়ে ‘ইলম তুলে নেবেন। এমতাবস্থায় যখন কেবল জাহিল নেতাবর্গ অবশিষ্ট থাকবে, তখন লোকেরা তাদেরকেই ফাতওয়া জিজ্ঞেস করবে। আর তারা নিজেদের রায় দ্বারা ফাতওয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরা ভ্রষ্ট হবে এবং অপরকেও ভ্রষ্ট করবে।” [সাহীহ বুখারী, হা/১০১]

·
প্রারম্ভিকা:

‘আলিম’ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি অবস্থান, যে অবস্থান আল্লাহ স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী স্রেফ তাঁর অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দাদেরকে দান করে থাকেন। ‘আলিমগণ সম্মানিত নাবীদের ওয়ারিশ। আল্লাহ’র কাছে তাঁদের বিশাল মর্যাদা রয়েছে। এই অবস্থানের অধিকারী নির্বাচিত বান্দারা ইসলাম প্রচার ও প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দেন। তাঁরা দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং জনসাধারণকে শার‘ঈ পদ্ধতিতে পথনির্দেশ করেন।

কেউ চাইলেই ‘আলিম হতে পারে না, এমনকি সারাজীবন ‘ইলম অর্জনে ব্যাপৃত থাকার পরও কেউ ‘আলিম হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ‘আলিম হিসেবে কবুল করেন।

সম্প্রতি উপমহাদেশীয় পরিমণ্ডলে একটি বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, আম জনসাধারণ—এমনকি কতিপয় দা‘ঈও—‘আলিম লকবটি যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে। কেউ কওমি মাদরাসা থেকে দাওরা পাস করেই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে, কেউ আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে, কেউ ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে, আবার কেউ কেউ দুচারটা হাদীস ও ফিক্বহের কিতাব পড়েই ‘আলিম বিবেচিত হচ্ছে। আল্লাহুল মুস্তা‘আন।

অথচ বিষয়টি এরকম জলবত তরলং নয়। ‘আলিম হওয়ার জন্য বিস্তর ‘ইলম, ফিক্বহ ও হিকমাহ’র প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন আছে প্রকৃত ‘আলিমদের পক্ষ থেকে ‘আলিম হওয়ার শাহাদাহ’র।

বর্তমান সময়ে উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষ ‘আলিমের পরিচয় সম্পর্কে অবগত নয়। ফলে তারা অনির্ভরযোগ্য দা‘ঈ এবং সেলিব্রেটি বক্তাদেরকে ‘আলিম গণ্য করে তাদের কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করে, ফলে তারা ভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন, “দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে আধা বক্তা, আধা ফাক্বীহ (‘আলিম), আধা ডাক্তার ও আধা ভাষাবিদ। আধা বক্তা ক্ষতি করে দ্বীনের, আধা ফাক্বীহ ক্ষতি করে দেশের, আধা ডাক্তার ক্ষতি করে শরীরের, আর আধা ভাষাবিদ ক্ষতি করে ভাষার।” [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ১১৮-১১৯; বাদশাহ ফাহাদ প্রিন্টিং প্রেস, মাদীনাহ ছাপা; ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি. (বাদশাহ ফাহাদের রাজকীয় ফরমানে মুদ্রিত)]

এহেন বিপজ্জনক পরিস্থিতির নিরসনকল্পেই আমাদের এই নিবন্ধের অবতারণা। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা যথাক্রমে ‘আলিমের পরিচয়, ‘আলিম হওয়ার শর্ত এবং ‘আলিম চেনার উপায় প্রসঙ্গে নাতিদীর্ঘ আলোচনা পেশ করেছি। আল্লাহ আমাদের এই সামান্য প্রয়াসকে সালাফী দা‘ওয়াহর অংশ হিসেবে কবুল করুন এবং এটাকে আমাদের জান্নাতে দাখিল হওয়ার মাধ্যমে পরিণত করুন। (আমীন)

·
‘আলিমের পরিচয়:

‘আলিম ও মুজতাহিদ—অভিধা দুটি অভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন, المُجتهِدُ في الحقيقةِ هو العَالِمُ “প্রকৃতপক্ষে মুজতাহিদ ব্যক্তিই হলেন ‘আলিম।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), শারহুল উসূল মিন ‘ইলমিল উসূল; পৃষ্ঠা: ৬৭২; দারু ইবনিল জাওযী, দাম্মাম কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৫ হিজরী (৪র্থ প্রকাশ)]

‘মুজতাহিদ’ একটি বিশেষ্য, যা ‘ইজতিহাদ’ ক্রিয়ামূল থেকে উদ্‌গত হয়েছে। ইজতিহাদের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থের দিকে লক্ষ করলে আমরা মুজতাহিদের পরিচয় সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারণা লাভ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

·
আভিধানিক অর্থে—

بذل المجهود واستفراغ الوسع في فعل من الأفعال، ولا يستعمل إلا فيما فيه مشقة، يقال: اجتهد في حمل الصخرة، ولا يقال: اجتهد في حمل العصا أو النواة.

“কোনো কাজে চেষ্টাপ্রচেষ্টা করা এবং শক্তিসামর্থ্য ব্যয় করাকে ইজতিহাদ বলে। এই অভিধাটি শুধুমাত্র ওই কাজের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, যাতে কষ্ট ও ক্লেশ যুক্ত থাকে। একারণে বলা হয়, সে (ভারি) প্রস্তরখণ্ডটি বহন করতে ইজতিহাদ করেছে। এ কথা বলা হয় না যে, সে একটি লাঠি বা একটি আঁটি বহন করতে ইজতিহাদ করেছে।” [ইমাম ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ (হাফিযাহুল্লাহ) প্রমুখ; তাসহীলুল উসূল ইলা ফাহমি ‘ইলমিল উসূল; পৃষ্ঠা: ১১৪; দারুল ইমাম আহমাদ, কায়রো কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩২ হি./২০১১ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

·
পারিভাষিক অর্থে—

ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন, بذل الجهد لإدراك حكم شرعي “কোনো একটি শার‘ঈ বিধান জানার জন্য চেষ্টাপ্রচেষ্টা করাকে ইজতিহাদ বলে।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), আল-উসূল মিন ‘ইলমিল উসূল; পৃষ্ঠা: ৮৫; দারু ইবনিল জাওযী, দাম্মাম কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৬ হিজরী]

ইমাম মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৩৯৩ হি.] বলেছেন, بذلُ الفقيهِ وسعَهُ بالنظر في الأدلة لأجل أن يحصل له الظنُّ أو القطعُ بأنَّ حكم الله في المسألة كذا “কোনো ফাক্বীহ কর্তৃক দলিলসমূহ পর্যবেক্ষণ করতে স্বীয় প্রচেষ্টা প্রয়োগ করাকে ইজতিহাদ বলে; যাতে করে তিনি অকাট্যতার ভিত্তিতে বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, এই মাসআলাহ’য় আল্লাহ’র বিধান এটা।”‌ [ইমাম শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ), মুযাক্কিরাতু উসূলিল ফিক্বহি ‘আলা রাওদ্বাতিন নাযির, পৃষ্ঠা: ৪৮৫; দারু ‘আলামিল ফাওয়াইদ, মক্কা কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৬ হিজরী (১ম প্রকাশ)]

আর মুজতাহিদের পরিচয় দিতে গিয়ে ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, المجتهد من بذل جهده لذالك “যে ব্যক্তি এর জন্য (অর্থাৎ, কোনো শার‘ঈ বিধান জানার জন্য) স্বীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেন, তাঁকে মুজতাহিদ বলে।” [আল-উসূল মিন ‘ইলমিল উসূল; পৃষ্ঠা: ৮৫]

·
ইজতিহাদের শর্ত:

ইজতিহাদের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। স্রেফ একজন মুজতাহিদই ইজতিহাদ করবেন, ‘আম্মী (লেইম্যান) ব্যক্তি ইজতিহাদ করবে না। ইজতিহাদ করার জন্য বেশ কিছু শর্ত আছে, যে শর্তগুলো পূরণ হলে একজন ব্যক্তি মুজতাহিদ হতে পারেন। যার মধ্যে ইজতিহাদের একটি শর্তেরও অবিদ্যমানতা পাওয়া যাবে, তিনি মুজতাহিদ তথা ‘আলিম বলে গণ্য হবেন না। এ ব্যাপারে আমরা পর্যায়ক্রমে কয়েকজন বিখ্যাত ইমামের উক্তি উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ।

ইমাম বাগাউয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৫১৬ হি.] বলেন—

“যে ব্যক্তি (নিজের মধ্যে) পাঁচ প্রকার ‘ইলম একত্র করেছেন তিনি মুজতাহিদ। ‘ইলমগুলো হলো: আল্লাহ’র কিতাবের ‘ইলম, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাতের ‘ইলম, ‘উলামায়ে সালাফের ইজমা‘ (মতৈক্য) ও ইখতিলাফের (মতানৈক্য) ক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্যসমূহের ‘ইলম, ভাষার ‘ইলম এবং কিয়াসের ‘ইলম। এটা হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে (আল্লাহ’র) বিধান উদ্‌ঘাটন করার পদ্ধতি। যখন তিনি কুরআন, সুন্নাহ, বা ইজমা‘র সুস্পষ্ট বক্তব্যের মধ্যে (আল্লাহ’র) বিধানকে স্পষ্টভাবে পাবেন না, তখন তাঁর জন‍্য কুরআন থেকে এই বিষয়গুলো জানা ওয়াজিব হয়ে যাবে—নাসিখ (রহিতকারী), মানসূখ (রহিত), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুফাসসাল (বিস্তৃত), খাস (নির্দিষ্ট), ‘আম (ব্যাপক), মুহকাম (দ্ব্যর্থহীন), মুতাশাবিহ (দ্ব্যর্থবোধক), মাকরূহ (অপছন্দনীয়), হারাম (নিষিদ্ধ), মুবাহ (বৈধ), মানদূব (পছন্দনীয়), ওয়াজিব (আবশ্যকীয়)। অনুরূপভাবে সুন্নাহ থেকেও এই বিষয়গুলো জানা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তাঁর জন্য সুন্নাহ থেকে সাহীহ ও দ্ব‘ঈফ এবং মুসনাদ ও মুরসাল সম্পর্কে জানা, কুরআনের ওপর সুন্নাহ’র বিন্যাস এবং সুন্নাহ’র উপর কুরআনের বিন্যাস সম্পর্কে জানা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

যাতে করে তিনি যদি এমন হাদীস পান, যার বাহ্যিক দিক কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, তাহলে হাদীসটির প্রায়োগিক দিকের সন্ধান লাভ করতে পারেন। কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা, কুরআনের বিরোধী নয়। অবশ্যই তাঁর জন্য শরিয়তের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে যে সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে তা জানা ওয়াজিব; বিধিবিধান ছাড়া এতে যে ঘটনাবলি, খবরাখবর ও উপদেশসমূহ রয়েছে তা এর আওতাভুক্ত নয়। অনুরূপভাবে কুরআন-সুন্নাহ’য় বিধিবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে যে ভাষাবিজ্ঞান ব্যবহৃত হয়েছে, সে সম্পর্কে জানাও তাঁর জন্য আবশ্যক; আরবদের সমগ্র ভাষা সম্পর্কে জানা এর আওতাভুক্ত নয়। তবে তাঁর জন্য ভাষা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা বাঞ্ছনীয়; যাতে করে স্থান, কাল ও পাত্রভেদে আরবদের কথা যে উদ্দেশ্যের অর্থ দেয়, সে উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি অবগত হতে পারেন। কেননা (শরিয়তের) সম্বোধন আরবদের ভাষার মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে; তাই যে ব্যক্তি তা জানে না, সে শরিয়তপ্রণেতার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও জানবে না।

তাঁর জন্য বিধিবিধানের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবি‘ঈগণের বক্তব্যসমূহ জানা এবং উম্মাহর ফাক্বীহদের অধিকাংশ ফাতওয়া জানা আবশ্যক, যাতে করে তাঁর উদ্‌ঘাটিত বিধান তাঁদের বক্তব্যের বিরোধী না হয়, যার ফলে কোনো বিধানে ইজমা‘ লঙ্ঘিত হয়। যখন তিনি এই প্রত্যেক প্রকার ‘ইলমের অধিকাংশই জানবেন, তখন তিনি মুজতাহিদ হিসেবে গণ্য হবেন। উল্লিখিত প্রত্যেক প্রকার ‘ইলমের সমগ্র অংশ জানাকে শর্ত করা হবে না, তবে কোনো শাস্ত্রের জ্ঞানই অপর্যাপ্ত থাকা যাবে না। যখন কেউ এই প্রকারগুলোর মধ্য থেকে কোনো এক প্রকার ‘ইলম সম্পর্কে জানবে না, তখন তার (অবলম্বন করার) রাস্তাই হলো তাক্বলীদ।” [আল-ইমামুল ‘আল্লামাহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রাহিমাহুল্লাহ), ‘ইক্বদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদি ওয়াত তাক্বলীদ; পৃষ্ঠা: ২১-২৩; দারুল ফাতহ, শারিক্বাহ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪১৫ হি./১৯৯৫ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

·
আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১২৫০ হি./১৮৩৪ খ্রি.] বলেছেন,

“ইজতিহাদ করার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। সেগুলো হলো—
১. কুরআন-সুন্নাহ’র নস (মূল বক্তব‍্য) সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। সে যদি কেবল একটি সম্পর্কে অবগত থাকে, তাহলে সে মুজতাহিদ নয়। তার জন্য ইজতিহাদ করা বৈধ নয়।
২. ইজমা‘র মাসআলাহসমূহ জানা থাকতে হবে। যেন সে ইজমা‘ বিরোধী ফাতওয়া না দেয়।
৩. আরবি ভাষা সম্পর্কে জানা থাকতে হবে, যেন সে কুরআন-সুন্নাহ’য় বর্ণিত অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়।
৪. তার উসূলে ফিক্বহ সম্পর্কে জানা থাকতে হবে, যেহেতু তা অত্যন্ত জরুরি (‘ইলমী) বিষয়কে শামিল করে। তার উচিত এই বিষয়ে বিশেষ (‘ইলমী) যোগ্যতা অর্জন করা।
৫. তার নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত) সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। যেন এ সংক্রান্ত কোনো মাসআলাহই তার অজানা না থাকে। আর তা একারণে যে, এর অন্যথা হলে সে হয়তো মানসূখ বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করে বসবে।” (সংক্ষেপিত) [ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ), ইরশাদুল ফুহূল ইলা তাহক্বীক্বিল হাক্বক্বি মিন ‘ইলমিল উসূল, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ১০২৭-১০৩৫; দারুল ফাদ্বীলাহ, রিয়াদ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২১ হি./২০০০ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]

·
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন—

“ইজতিহাদের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। যথা:

১. শার‘ঈ দলিল থেকে যা তার ইজতিহাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে তা জানা থাকা। যেমন: বিধিবিধানের আয়াত ও হাদীসসমূহ।
২. হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা জানা থাকা। যেমন: সনদ ও তার বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জানা।
৩. নাসিখ (রহিতকারী) মানসূখ (রহিত), ইজমা‘ (মতৈক্য) সংঘটিত হওয়ার স্থান সম্পর্কে জানা থাকা। যাতে করে সে মানসূখ বিধান বা ইজমা‘ বিরোধী বিধান অনুযায়ী ফায়সালা না দেয়।
৪. দলিলসমূহ থেকে যার কারণে বিধান ভিন্নতর হয় তথা খাসকরণ (নির্দিষ্ট), মুক্বাইয়্যাদকরণ (শর্তযুক্ত) প্রভৃতি সম্পর্কে জানা থাকা। যাতে করে সে এগুলোর বিরোধী বিষয়ের দ্বারা ফায়সালা না দেয়।
৫. ভাষা ও ফিক্বহের মূলনীতি থেকে যা কিছু শব্দের মর্মার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট তা জানা থাকা। যেমন: ‘আম (ব্যাপক), খাস (নির্দিষ্ট), মুত্বলাক্ব (শর্তহীন), মুক্বাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুবাইয়্যান (বিস্তৃত) প্রভৃতি। যাতে করে সে ওই মর্মার্থের দাবি অনুযায়ী ফায়সালা দেয়।
৬. তার কাছে এমন সক্ষমতা থাকা, যার দ্বারা সে দলিল থেকে (শার‘ঈ) বিধান উদ্‌ঘাটন করতে পারে।” [ইমাম ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), আল-উসূল মিন ‘ইলমিল উসূল; পৃষ্ঠা: ৮৫-৮৬; দারু ইবনিল জাওযী, দাম্মাম কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২৬ হিজরী]

·
সুপ্রিয় পাঠক, এখন কিছু প্রশ্ন করি। বর্তমান সময়ে ‘আলিম হওয়ার এসব যোগ্যতা পূরণকারী লোকদের সংখ্যা কেমন হতে পারে? প্রত্যেক সুবক্তা ও বিতার্কিক, বা ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী, কিংবা সেলিব্রেটি লেখক ও কিতাবের তাহক্বীক্বকারীর মধ্যেই কি এসব গুণ রয়েছে? প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যেতে পারে বিগত শতাব্দীর প্রখ্যাত ‘আলিমে দ্বীন, আল-ফাক্বীহ, আল-উসূলী, আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, ড. ‘আব্দুস সালাম বিন বারজিস বিন নাসির আলে ‘আব্দুল কারীম (রাহিমাহুল্লাহ)’র নিম্নোক্ত বক্তব্য থেকে।

‘আল্লামাহ ‘আব্দুস সালাম বিন বারজিস আলে ‘আব্দুল কারীম (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি.] বলেছেন—

“নিশ্চয়ই ‘আলিম বলে ডাকা যায় এমন লোকের সংখ্যা খুবই সামান্য। এবং এটা অতিরঞ্জন হবে না, যদি বলা হয় বিরল। এর কারণ হলো একজন ‘আলিমের কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আর বর্তমানে নিজেদের ‘ইলমের সাথে সংযুক্তকারী অধিকাংশের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্যের অধিকাংশই পাওয়া যায় না। সুতরাং একজন ‘আলিম সে নয় যে একজন সুবক্তা, এবং একজন ‘আলিম সে নয় যে একটি কিতাব সংকলন করে অথবা একটি পাণ্ডুলিপির তাহক্বীক্ব করে। আর শুধু এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকার কারণেই যদি কাউকে ‘আলিম বোঝানো হয়, এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ‘আলিম কে—এই বিষয়টির সাথে অপরিচিত অনেকের মনের মধ্যেই এই বিষয়টি রয়েছে (অর্থাৎ কেউ সুবক্তা হলে, বা কিতাব সংকলন করলে, কিংবা পাণ্ডুলিপির তাহক্বীক্ব করলেই তাকে তারা ‘আলিম ভাবে), আর একারণে সাধারণ জনগণের অনেকেই অ-‘আলিম (‘আলিম নয় এমন) লোকদের বাগ্মিতা ও লেখালেখির কাছে নিজেদের বিনম্র করেছে। সুতরাং এই বিষয়গুলো (বাগ্মী হওয়া, কিতাব সংকলন করা, পাণ্ডুলিপির তাহক্বীক্ব করা ইত্যাদি) তাদের কাছে একটি বিস্ময়ের ব্যাপার হয়ে গেছে। সত্যিকারার্থে একজন ‘আলিম হলেন তিনি, যিনি শার‘ঈ ‘ইলমের ব্যাপারে বিজ্ঞ এবং কিতাব ও সুন্নাহ’র হুকুম আহকামের সাথে পরিচিত, নাসিখ-মানসূখ, মুত্বলাক্ব-মুক্বাইয়্যাদ, মুজমাল-মুফাসসারের মতো বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত, এবং যিনি সেসব ব্যাপারেও সালাফদের বক্তব্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, যেসব ব্যাপারে তাঁরা মতপার্থক্য করেছেন।” [শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)’র “মান হুমুল ‘উলামা”– শীর্ষক অডিয়ো ক্লিপ থেকে সংগৃহীত; সোর্স: সালাফিটক (salafitalk) ডট নেট]

·
‘আলিম চেনার উপায়:

পদমর্যাদা, ডিগ্রি, ক্ষমতা, বাগ্মিতা, যশ, খ্যাতি—এগুলোর কোনো কিছুই মানুষকে ‘আলিমে পরিণত করে না, যা অজ্ঞতাবশত অনেক ব্যক্তি ধারণা করে থাকে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেন,

المنصب والولاية لا يجعل من ليس عالما مجتهداً عالما مجتهداً، ولو كان الكلام في العلم والدين بالولاية والمنصب لكان الخليفة والسلطان أحق بالكلام في العلم والدين، وبأن يستفتيه الناس ويرجعوا إليه فيما أشكل عليهم في العلم والدين.

“যে ব্যক্তি মুজতাহিদ ‘আলিম নয়, পদমর্যাদা ও ক্ষমতা তাকে মুজতাহিদ ‘আলিমে পরিণত করে না। যদি দ্বীন ও (শার‘ঈ) ‘ইলমের ব্যাপারে কথা বলা পদমর্যাদা ও ক্ষমতার ভিত্তিতে হত, তাহলে অবশ্যই খলিফা ও বাদশাহই দ্বীন ও (শার‘ঈ) ‘ইলমের ব্যাপারে কথা বলার সবচেয়ে বড়ো হকদার হতো। আর লোকেরা তার কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করবে এবং (শার‘ঈ) ‘ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, এমন অবস্থানেরও সবচেয়ে বড়ো হকদার হতো।” [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, খণ্ড: ২৪; পৃষ্ঠা: ২৯৬; বাদশাহ ফাহাদ প্রিন্টিং প্রেস, মাদীনাহ ছাপা; ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি. (বাদশাহ ফাহাদের রাজকীয় ফরমানে মুদ্রিত)]

আমাদের দেশে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে—“রতনে রতন চেনে, মানিকে চেনে মানিক।” আর‌ও বলা হয়—“জহুরি জহর চেনে, কামার চেনে লোহা।” আর তাইতো প্রকৃত চিকিৎসককে একজন চিকিৎসকই চিনতে পারে এবং প্রকৃত প্রকৌশলীকে একজন প্রকৌশলীই চিনতে পারে। মানুষ এটা দুনিয়াবি ক্ষেত্রে খুব ভালোভাবে মেনে চলে। কিন্তু হায়! পারলৌকিক বিষয়ে তাদের যত অবহেলা, অবজ্ঞা ও হঠকারিতা। সুস্থ মস্তিষ্কে একটু চিন্তাও করে না যে, একজন প্রকৃত ‘আলিমই দ্বীনের পথনির্দেশক, আর একজন ‘আলিমই কেবল চিনতে পারেন—কে প্রকৃত ‘আলিম, আর কে ভুয়া ‘আলিম তথা পাক্কা জাহিল। আল্লাহুল মুস্তা‘আন।

সালাফদের যুগ থেকেই এই সিলসিলা চলে আসছে যে, একজন ‘আলিমকে চেনা হবে সামসময়িক ‘আলিমদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে। বর্তমান যুগেও একজন ‘আলিমকে চিনতে হলে ‘আলিমগণের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ ‘আলিমগণ ব্যক্তির যে অবস্থা বর্ণনা করবেন, সেটাই ওই ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি কিবার ‘আলিম, নাকি সাধারণ ‘আলিম, অথবা ত্বালিবুল ‘ইলম, নাকি ‘আম্মী তথা লেইম্যান—তা কেবল ‘আলিমকে জিজ্ঞেস করার মাধ্যমেই জানা সম্ভব।

·
শাইখুল ইসলাম, হুজ্জাতুল উম্মাহ, ইমামু দারিল হিজরাহ, আবূ ‘আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস আল-আসবাহী আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৭৯ হি.] বলেছেন,

ﻣﺎ ﺃﺟَﺒْﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﻔَﺘْﻮﻯ ﺣﺘﻰ ﺳﺄﻟﺖ ﻣﻦ ﻫﻮ ﺃﻋْﻠَﻢ ﻣﻨﻲ : ﻫﻞ ﺗَﺮﺍﻧﻲ ﻣَﻮﺿِﻌﺎ ﻟﺬﻟﻚ؟ ﺳﺄﻟﺖ ﺭَﺑﻴﻌَﺔ، ﻭﺳﺄﻟﺖ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ، ﻓﺄَﻣَﺮﺍﻧﻲ ﺑﺬﻟﻚ، ﻓﻘﻠﺖ ﻟﻪ : ﻳﺎ ﺃﺑﺎ ﻋَﺒْﺪ ﺍﻟﻠﻪ : ﻟﻮ ﻧَﻬَﻮْﻙ؟ ﻗﺎﻝ : ﻛﻨﺖ ﺃﻧْﺘَﻬﻲ؛ ﻻ ﻳَﻨﺒَﻐﻲ ﻟﺮَﺟُﻞ ﺃﻥ ﻳﺮﻯ ﻧَﻔﺴَﻪ ﺃﻫﻼ ﻟِﺸَﻲﺀ، ﺣﺘﻰ ﻳَﺴﺄَﻝ ﻣﻦ ﻫﻮ ﺃﻋْﻠَﻢ ﻣﻨﻪ.

“আমি ফাত‌ওয়ার জবাব দিইনি, যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার চেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে আমি জিজ্ঞেস করেছি যে, তিনি আমাকে এর উপযুক্ত মনে করেন কিনা। আমি রাবী‘আহকে জিজ্ঞেস করেছি, আমি ইয়াহইয়া বিন সা‘ঈদকে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে (ইমাম মালিককে) বললাম, “হে আবূ ‘আব্দুল্লাহ, তাঁরা যদি আপনাকে নিষেধ করতেন?” তিনি বললেন, “তাহলে আমি বিরত থাকতাম। কোনো ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে কোনো বিষয়ের উপযুক্ত মনে করা, যতক্ষণ না সে (সংশ্লিষ্ট বিষয়ে) তার চেয়ে বেশি জানা ব্যক্তিকে (নিজের ব্যাপারে) জিজ্ঞেস করে।” [ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ), সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ৬২; মুআসসাসাতুর রিসালাহ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.]

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) আর‌ও বলেন, ﻣَﺎ ﺃَﻓْﺘَﻴْﺖُ ﺣَﺘَّﻰ ﺷَﻬِﺪَ ﻟِﻲ ﺳَﺒْﻌُﻮﻥَ ﺃَﻧِّﻲ ﺃَﻫْﻞٌ ﻟِﺬَﻟِﻚَ “আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ফাতওয়া দিইনি, যতক্ষণ না সত্তরজন (‘আলিম) আমার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আমি এ কাজের উপযুক্ত।” [আবূ নু‘আইম আল-আসবাহানী (রাহিমাহুল্লাহ), হিলইয়াতুল আউলিয়া, খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৩১৬; আসার নং: ৮৯৭০]

·
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন,

الناس في حقائق الإيمان متفاضلون تفاضلا عظيما، فأهل الطبقة العليا يعلمون حال أهل السفلى من غير عكس، كما أن أهل الجنة في الجنة ينزل الأعلى إلى الأسفل، ولا يصعد الأسفل إلى الأعلى، والعالم يعرف الجاهل؛ لأنه كان جاهلا والجاهل لا يعرف العالم لأنه لم يكن عالماً.

“ইমানের প্রকৃতত্বের ক্ষেত্রে মানুষ বিশাল (মর্যাদাগত) পার্থক্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। সর্বোচ্চ স্তরের অধিবাসীরা কোনোরূপ বৈপরীত্য ছাড়াই নিচের স্তরের অধিবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে জানে। যেমনভাবে জান্নাতে জান্নাতবাসীদের মধ্যে উঁচু স্তরের অধিবাসী নিচু স্তরের অধিবাসীর নিকট নামতে পারবে, কিন্তু নিচু স্তরের অধিবাসী উঁচু স্তরের অধিবাসীর নিকট উঠতে পারবে না। ‘আলিম জাহিলকে চিনতে পারেন, কেননা তিনি একসময় জাহিল ছিলেন। কিন্তু জাহিল ‘আলিমকে চিনতে পারে না, কারণ সে কখনো ‘আলিম ছিল না।” [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১৩; পৃষ্ঠা: ২৩৫; বাদশাহ ফাহাদ প্রিন্টিং প্রেস, মাদীনাহ ছাপা; ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি. (বাদশাহ ফাহাদের রাজকীয় ফরমানে মুদ্রিত)]

ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৪৮ হি.] বলেছেন, ﺍﻟﺠﺎﻫﻞ ﻻ ﻳﻌﻠﻢ ﺭﺗﺒﺔ ﻧﻔﺴﻪ، ﻓﻜﻴﻒ ﻳﻌﺮﻑ ﺭﺗﺒﺔ ﻏﻴﺮﻩ “জাহিল ব্যক্তি নিজের অবস্থান সম্পর্কেই অবগত নয়, সে কীভাবে অন্যের অবস্থান সম্পর্কে জানবে?!” [ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ), সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, খণ্ড: ১১; পৃষ্ঠা: ৩২১; মুআসসাসাতুর রিসালাহ কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.]

·
উপসংহার:

পরিশেষে বলছি, আমাদের জন্য প্রকৃত ‘আলিম চেনা অতীব জরুরি কাজ। কারণ আমাদেরকে দ্বীন বুঝতে হলে তাঁদের শরণাপন্ন হতে হয়, তাঁদেরকে দ্বীনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে হয়। আর যাকে তাকে ‘আলিম গণ্য করে তাদের নিকট থেকে ‘ইলম গ্রহণ করলে ধ্বংস অনিবার্য। মহান আল্লাহ বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের (অর্থাৎ, সালাফদের) পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায় এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব। আর কতই না মন্দ সে আবাসস্থল!” [সূরাহ নিসা: ১১৫]

আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য ‘আলিম চেনার এবং তাঁদের কাছ থেকে ‘ইলম গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল ‘আলামীন।

·
অনুবাদ ও সংকলনে: মুহাম্মাদ ‘আব্দুল্লাহ মৃধা
পরিবেশনায়: ফেইসবুক পেইজ:

সালাফী: ‘আক্বীদাহ্ ও মানহাজে

Share This Post