চরমোনাই এর পীর মাওলানা এছহাক সাহেবের কয়েকটি মারাত্মক শরিয়া বিরোধী ও ভ্রান্ত কথা

◈ ১) পীর সাহেব লিখেছেনঃ “সত্যই কেয়ামতের অবস্থা এইরূপ (ভয়ানক) হইবে এবং আল্লাহর হুকুমে সেই দিন নিঃসন্দেহে পীরগণ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা করা যায়।” (ভেদে মারেফতঃ ২৫-২৬)

◈ ২) পীর সাহেব আরো লিখেছেন: “কামেল পীর হইলেন আখেরাতের উকীল স্বরূপ।” (ভেদে মারেফতঃ ৬১ পৃঃ)

◈ ৩) পীর সাহেব আরো লিখেছেন: “হযরত থানবী লিখিয়াছেন, জনৈক দরবেশ সাহেবের মৃত্যুর পর এক কাফন চোর কবর খুড়িয়া (দরবেশের) কাফন খুলিতে লাগিল। দরবেশ সাহেব চোরের হাত ধরিয়া বসিলেন। তা দেখে চোর ভয়ের চোটে চিৎকার মারিয়া বেহুঁশ হইয়া মরিয়া গেল। দরবেশ স্বপ্নযোগে তার এক খলীফাকে আদেশ করিলেন চোরকে তার পার্শ্বে দাফন করিতে।

খলীফা এতে আপত্তি করিলে দরবেশ বলিলেন, কাফন চোরের হাত আমার হাতের সঙ্গে লাগিয়াছে, এখন কেয়ামত দিবসে ওকে ছাড়িয়া আমি কেমনে পুলছেরাত পার হইয়া যাইব?” (ভেদে মারেফতঃ ২৭-২৮ পৃঃ)

◈ ৪) তিনি আরো লিখেছেন: “কেয়ামতের সেই মহাবিপদের সময় হক্কানী পীর সাহেবগণ আপন মুরীদগণকে হযরত নবী করীম (সঃ) এর কাছে পৌঁছাইয়া দিবেন এবং হুজুরে আকরাম (সাঃ) তাহাদিগকে হাউজে কাউছারের পানি পান করাইবেন।” (আশেক মাশুক পৃঃ ৬৬)

◈ ৫) তিনি আরো লিখেছেন; “এরূপভাবে পরকালেও তাঁহাদের (ওলীদের) ক্ষমতার সীমা থাকিবে না। হাশরের মাঠে একজন আওলিয়ায়ে কেরামের উছিলায় হুজুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লামের হাজার গুনাহগার উম্মতকে আল্লাহ্‌ পাক মাফ করিয়া দিবেন।” (আশেক মাশুক পৃঃ ৮১)

◈ ৬) চরমোনাই পীর মাওলানা এছহাক সাহেব লিখেছেন: “মৃত্যুর সময় যখন শয়তান ঈমান লুটিবার জন্য আসিবে, তখন পীর ছাড়া উপাই নাই…..। (ভেদে মা’রেফত ৩২ পৃঃ)

◈ ৭) এক মুরিদ হজ্জ থেকে ফেরার পথে তাদের স্টীমার তুফানের কবলে পড়লে সেখান থেকে হযরত রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী সাহেব কর্তৃক তা উদ্ধারের কাহিনী।
(আশেক মাশুক বা এস্কে এলাহীঃ ৬০-৬১ পৃষ্ঠা)

◈ ৮) গঙ্গুহী সাহেব কর্তৃক মুরাকাবায় বসে এক বৃদ্ধের নিরুদ্দেশ ছেলেকে উদ্ধারের ঘটনা। (আশেক মাশুক বা এস্কে এলাহীঃ ৬২-৬৩ পৃষ্ঠা)

◈ ৯) হযরত শামছুত তাবরিজী (রঃ) কর্তৃক মৃত মানুষ জীবিত করা, (জোর করে আল্লাহর নিকট থেকে রূহ ছিনিয়ে আনা), সূর্যের আলো নিভিয়ে দেয়া, নিজের হাতে নিজের গায়ের চামড়া খুলে ফেলার লোমহর্ষক ঘটনাবলী। [দ্রঃ ভেদে মা’রেফত বা ইয়াদে খোদাঃ ১৫-১৭ নং পৃষ্ঠা]

◈ ১০) এক রাখালকে মুসা আ. এর মত এত মর্যাদাবান নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান। (আশেক মাশুক ৮৮-৯০ পৃঃ)

এমন আরও বহু বহু ভ্রান্ত ও রূপকথার গল্প, আল্লাহর শানে বেয়াবদি ও ধৃষ্টতা মূলক কথাবার্তা এবং সেগুলোর জবাব সম্পর্কে জানতে শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী কর্তৃক রচিত ‘তাওহীদ পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক বইটি পড়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।

‘তাওহীদ পুনরুদ্ধার salafibd’ লিখে গুগল সার্চ করলে বইটির পিডিএফ ও ওয়ার্ড ফাইল ডাউনলো করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

হক্কানী পীর নামধারী ভণ্ড পীরের গোমর ফাঁস করে জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসুন। আল্লাহ তাআলা সকলকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

——————————–
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share This Post
Scroll to Top