ইসলাম অর্থ কি? মুসলিম কাকে বলে?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
“ইসলাম” আরবী শব্দ যার অর্থ “আনুগত্ত করা বা আত্মসমর্পন করা”।
আর শান্তির আরবী শব্দ হচ্ছে ‘সালাম’।
আরবী ভাষার বিখ্যাত ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিধান ‘ইবনে মানজুর’ রচিত ‘লিসানুল আরব’ এ বলা হয়েছে, ইসলাম শব্দটি ‘ইসতিসলাম’ ( ﺍﺳﺘﺴﻼﻣﺎ) শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ হচ্ছে কারো কাছে নত হওয়া, আত্মসমর্পণ করা।
: আমাদের অনেকেই মনে করি – ﺳﻠﻢ এই তিনটি অক্ষর থেকে যেহেতু ইসলাম ও সালাম উভয় শব্দের উৎপত্তি, তাই উভয় এর অর্থ একই হবে।
অথচ বাস্তবে একই মূল ধাতু থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন শব্দের অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয়। :
যেমনঃ ﺳﻠﻢ থেকে উৎপন্ন শব্দ সমূহ হলোঃ ইসলাম – ﺍﺳﻼﻡ – আত্মসমর্পণ সালাম- ﺳﻼﻡ – ভালো থাকা / শান্তি সালামা- ﺳﻠﻤﺎ – চামড়ার প্রস্তুতি (ট্যানারী) সালিমা- ﺳﻠﻴﻤﺎ – বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া (স্ত্রী বাচক) সালিম – ﺳﻠﻴﻢ – বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া (পুং বাচক) আসলাম- ﺍﺳﻠﻢ -সপে দেয়া (submit) ইসতিসলাম- ﺍﺳﺘﺴﻼﻣﺎ -আত্মসমর্পণ করা মুসাল – ﻣﺴﻞ -যাতে কোন মতদ্বন্দ হয়নি (Undisputed) : বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ সাহিব বিন আব্বাদ [ ﺍﻟﺼﺎﺣﺐ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺩ ] (মৃত্যুঃ ৩৮৫ হিজরী) রচিত আল-মুহিত ফিল লুগাহ [ ﺍﻟﻤﺤﻴﻂ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻐﺔ ] এর ﺳﻠﻢ অধ্যায়।
: প্রসিদ্ধ ফিক্বাহ গ্রন্থ ইমাম ইবনে আবেদীন (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত “রুদ্দুল মুহতারে” ( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﺷﺮﺡ ﺗﻨﻮﻳﺮ ﺍﻷﺑﺼﺎﺭ ) বলা হয়েছেঃ ﺍﻋْﻠَﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡَ ﻋَﻠَﻰ ﻭَﺟْﻬَﻴْﻦِ : ﺷَﺮْﻋِﻲٍّ ، ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻤَﻌْﻨَﻰ ﺍﻟْﺈِﻳﻤَﺎﻥِ . ﻭَﻟُﻐَﻮِﻱٍّ ، ﻭَﻫُﻮَ ﺑِﻤَﻌْﻨَﻰ ﺍﻟِﺎﺳْﺘِﺴْﻠَﺎﻡِ ﻭَﺍﻟِﺎﻧْﻘِﻴَﺎﺩِ ﻛَﻤَﺎ ﻓِﻲ ﺷَﺮْﺡِ ﺍﻟْﻌُﻤْﺪَﺓِ ﻟِﻠﻨَّﺴَﻔِﻲِّ – ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ – ৬/২৯৮ : অর্থাৎ, “জেনে রাখো, ইসলামের অর্থ দুইটি।
ইসলামী শারীয়াতের পরিভাষায়ঃ এটার অর্থ হচ্ছে ঈমান। আভিধানিক / শাব্দিক অর্থে এর অর্থ হলোঃ আত্মসমর্পণ ﺍﻟِﺎﺳْﺘِﺴْﻠَﺎﻡِ এবং মান্য করা ﻭَﺍﻟِﺎﻧْﻘِﻴَﺎﺩِ ঠিক যেভাবে ইমাম নাসাফীর আল-উমদাহ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এসেছে।”
: ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) মাজমু আল ফাতওয়াতে বলেছেনঃ : ﻓَﺎﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡُ ﻳَﺘَﻀَﻤَّﻦُ ﺍﻟِﺎﺳْﺘِﺴْﻠَﺎﻡَ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﺣْﺪَﻩُ – ﻣﺠﻤﻮﻉ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ৩/৯১ . অর্থাৎ, “ইসলাম এর অর্থের মধ্যে রয়েছে এক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা।”
: ইসলামের শত্রুরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের মধ্যে অনেক ভুল ধারনা ঢুকিয়ে দিতে চায়। যাতে আমরা প্রকৃত ইসলাম না জানি, সেটা থেকে দূরে থাকি, তাহলে তারা আমাদেরকে পরাজিত করে রাখতে পারবে। যার একটা উদাহরণ হলোঃ স্বয়ং ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ এর ভুল আভিধানিক অর্থের প্রচলন।
//
: অনেক মুসলমান সঠিক ব্যাপারটা না জানার কারণে “ইসলাম মানে শান্তি” বলে থাকেন। ইংরেজরা যখন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে, তখন তৎকালীন ইংরেজ গভর্ণর ডঃ ম্যাকলিকে আলিয়া মাদ্রাসার সিলেবাস তৈরী করার দায়িত্ব দেয়।
এই সুযোগে তারা ইসলামের অনেক মৌলিক পরিভাষা; যেমন ইসলাম, ইলাহ, রব, তাওহীদ, শিরক, তাগুত, জিহাদ ইত্যাদি পরিবর্তন করে। তন্মধ্যে বাত্বিলের সাথে ইসলামের অনিবার্য দ্বন্দ ও সংঘাতকে এড়ানো জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামের অর্থ “শান্তি” হিসেবে প্রচার করে থাকে।
জিহাদ’ সহিংস দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলাম “শান্তির ধর্ম” এরকম একটি ব্যঙ্গাত্মক বিবৃতি সংক্রান্ত একটি অকৃতজ্ঞ সমালোচনার জবাবে উল্লেখিত ইসলামের ভাষাগত মৌলিক ব্যাখ্যা ও অর্থ তুলে দরা হল।
আল্লাহ বলেনঃ ‘’আর যে আল্লাহ এর উদ্দেশে আত্মসমর্পণ করেছে ও সৎকাজ করে এবং ইব্রাহিমের সুদৃঢ় ধর্মের অনুসরণ করে, তার অপেক্ষা কার ধর্ম উৎকৃষ্ট? এবং আল্লাহ ইব্রাহিমকে স্বীয় বন্ধুরুপে গ্রহন করেছিলেন।‘’ (সুরা নিসা: ১২৫)
‘’যখন তার প্রভু তাকে বলেন, তুমি আনুগত্য স্বীকার কর, সে বলেছিলঃ আমি বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।“(আল বাকারা: ১৩১)
///
মুসলিম কাকে বলে?
==============================
=====================
মুসলিম শব্দের অর্থ আত্নসর্মপনকারী।
পারিভাষিক অর্থেঃ
যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে মহান প্রতিপালক হিসেবে গ্রহন করবে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবেনা এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশিত পথে নিজের জীবন চালাবে, হালাল কে হালাল বলে মানবে এবং হারামকে বয়কট করবে, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, রোজা রাখবে, নিসাবের অধিকারী হলে যাকাত আদায় করবে এবং হজ্জে গমন করবে। এইসব গুনাবলীর অধিকারী হলে তাকে মুসলিম বলা হয়।
পবিত্র কুরআন এ বলা হয়েছেঃ
ﻟَّﻴْﺲَ ﺍﻟْﺒِﺮَّ ﺃَﻥ ﺗُﻮَﻟُّﻮﺍ ﻭُﺟُﻮﻫَﻜُﻢْ ﻗِﺒَﻞَ ﺍﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ ﻭَﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﻟَٰﻜِﻦَّ ﺍﻟْﺒِﺮَّ ﻣَﻦْ ﺁﻣَﻦَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِ ﻭَﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺁﺗَﻰ ﺍﻟْﻤَﺎﻝَ ﻋَﻠَﻰٰ ﺣُﺒِّﻪِ ﺫَﻭِﻱ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰٰ ﻭَﺍﻟْﻴَﺘَﺎﻣَﻰٰ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦَ ﻭَﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﺋِﻠِﻴﻦَ ﻭَﻓِﻲ
ﺍﻟﺮِّﻗَﺎﺏِ ﻭَﺃَﻗَﺎﻡَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺁﺗَﻰ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﺍﻟْﻤُﻮﻓُﻮﻥَ ﺑِﻌَﻬْﺪِﻫِﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﻋَﺎﻫَﺪُﻭﺍ ۖ ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﺄْﺳَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟﻀَّﺮَّﺍﺀِ ﻭَﺣِﻴﻦَ ﺍﻟْﺒَﺄْﺱِ ۗ ﺃُﻭﻟَٰﺌِﻚَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺻَﺪَﻗُﻮﺍ ۖ ﻭَﺃُﻭﻟَٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
হাদীস থেকে ব্যখ্যাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন “ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশী। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা”সহীহ বুখারী ১ম খন্ড ঈমান অধ্যায় হাদীস নং ৮ । প্রকৃত মুসলিম সে-ই যার হাত ও জিহবা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৯
মুহাম্মদ ইবনুন মুসান্না (র)…আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)থেকে বর্নিত, “নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্য থাকে সে ঈমানের স্বাদ পায়।
১.আল্লাহ ও তার রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু হতে প্রিয় হওয়া।
২. কাউকে খালিস আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা।
৩. কূফরীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপসন্দ করা।” সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৫ ঈমান অধ্যায়।
: আমাদের ইসলাম সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান অর্জনের শুরু হোক স্বয়ং ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ দিয়ে।⁠⁠⁠⁠

Share This Post
Scroll to Top