জান্নাত ও জাহান্নাম এত কাছে

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الجنَّةُ أقربُ إلى أحدِكم من شِراكِ نعلِه ، والنَّارُ مثلُ ذلك
“জান্নাত তোমাদের জুতার ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। জাহান্নামও তদ্রূপ।” (সহীহ বুখারি, হা/৬৪৮৮)
❑ হাদিসটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. সহীহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে বলেন, “…এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইবনে বাত্বাল বলেন, এই হাদিসে শিক্ষণীয় বিষয় হল, আল্লাহর আনুগত্য মূলক কাজ জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছায় আর আল্লাহর নাফরমানি মূলক কাজ জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছায়। অথচ খুব সহজেই এই আনুগত্য বা নাফরমানি মূলক কাজ করা যায়। যেমনটি অন্য হাদিসে সূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إنَّ العبدَ ليتكلَّمُ بالكلمةِ من رضوانِ اللهِ ، لا يُلقي لها بالًا ، يرفعُ اللهُ بها درجاتٍ ، وإنَّ العبدَ ليتكلَّمُ بالكلمةِ من سخطِ اللهِ ، لا يُلقي لها بالًا ، يهوي بها في جهنَّمَ
“মানুষ আল্লাহর সন্তোষ মূলক এমন কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে যেটিকে সে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। অথচ আল্লাহ তায়ালা এ কথাটির বিনিময়ে তার মর্যাদা অনেক উপরে উঠিয়ে দেন। আবার মানুষ আল্লাহর ক্রোধ উদ্রেক কারী এমন কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে যেটাকে সে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না অথচ এই কথাটির বিনিময়ে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।” (সহিহ বুখারি হা/২৩১৯)
ইবনুল জাওযী রা. বলেন, “হাদিসটি অর্থ হল, “নিয়ত এবং আমল সংশোধন করার মাধ্যমে যেভাবে জান্নাত অর্জন করা সহজ তেমনই কু প্রবৃত্তির চাহিদা মাফিক জীবন পরিচালনা করা এবং আল্লাহর নাফরমানী মূলক কাজের মাধ্যমে জাহান্নাম অর্জন করাও সহজ।” (ফাতহুল বারী, ৬৪৮৮ নং হাদিসের ব্যাখ্যা)
সুতরাং ভাল কাজ যত কমই হোক না তা উপেক্ষা করা উচিৎ নয়। অনুরূপভাবে মন্দ কাজ যত ছোটই হোক না তা পরিত্যাগ করতে অবহেলা করাও উচিৎ নয়। কেননা, সে জানে না যে কোন ভাল কাজটির বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দয়া করবেন আর কোন মন্দ কাজটির কারণে আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল৷
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব৷
Share This Post
Scroll to Top