কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

নিজের অস্তিত্বকে ভুলে এমন মাতাল হবেন না যে মুশরিক হয়ে উঠবেন!!  পুজো দেখতে গেলেন তো মুশরিক হলেন!!

নিজের অস্তিত্বকে ভুলে এমন মাতাল হবেন না যে মুশরিক হয়ে উঠবেন!!  পুজো দেখতে গেলেন তো মুশরিক হলেন!!

> পুজায় অংশ নেয়ার মূল কাজ হচ্ছে সেখানে উপস্থিত হওয়া। ওখানে গিয়ে মুর্তির সামনে লুটিয়ে পরতে হবে বিষয়টা এমন নয়। কেননা! হিন্দু ধর্মেও মুর্তির পুজা নিষেধ। মুর্তি পুজা শুরু হয় কিছু মনিষিদের স্মরণ, অমরগাথার প্রচারের জন্য। উৎসবও করা হয় মূলত সে কারণেই। যেখানে উপস্থিতিটাই মূখ্য। পুজনীয় ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন ঘটনা ও শিক্ষা স্মরণ করাই মুখ্য। মুর্তিগুলোও সেভাবেই তৈরী হয় যাতে বিভিন্ন ঘটনার সাথে যোগ থাকে। তাই পুজা অর্থ মূলত স্মরণ/সম্মানকে বোঝায়। আর উপস্থিতিটাই শিরকে পরিণত করে। সেটা মুর্তির সামনে হউক, স্তম্ভের সামনে হউক বা ছবি টাঙ্গিয়ে হউক!

> ইসলামেও মুর্তি/মৃত পুজা নিষিদ্ধ/ হারাম/ শিরকি কাজ। মুসলিমরা মুর্তি/মৃতদের পুজা না করেও মাজার/পীরদের কাছে গিয়েই যদি শিরকে লিপ্ত হতে পারে; যদি রাসূল সা. গনকের কাছে গেলেই ৪০ দিনের সালাত কবুল হবে না বলে উল্লেখ করেন; সেখানে কেউ পুজায় গেলে কি হবে তা ভেবে দেখা উচিত নয়কি!!?

> দেখলে কি সমস্যা, আমিতো আর পূজা করছিনা, এমন বক্তব্যের উত্তরে তাদের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন-

আপনি কি আপনার বন্ধুর মাকে কেউ প্রকাশ্যে ধর্ষণ করতে থাকলে সেটা দেখতে যাবেন, এই বলে যে আমিতো করছিনা? সাধারণ আপনার বাবাকে কেউ অপমান করলে তার গায়ে হাত তুললে সেখানে অনেক লোক জরো হলেই কি আপনিও সেই দেখতে যাওয়া লোকদের মত শুধু দেখতে যাবেন? বাবার অপমান সহ্য হবে না স্রষ্টার অপমান কিভাবে মেনে নিতে পারছেন?!

তুলনাটি অনন্য মনে হলেও বিশ্বাস করুন, শিরকের ব্যাপারটি তার চেয়েও
অনেক অনেক মারাত্মক ভয়ংকর।

# শয়তান সবসময় তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুত করতে সদাতৎপর। আর তার একটি পছন্দনীয় অস্ত্র হল কোন পাপ কাজের প্রতি আপনার বিতৃষ্ণা/ ঘৃণার অনুভূতি হালকা করতে করতে তাকে স্বাভাবিকের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। কোন পাপকাজের সাথে নিয়মিত জড়িত হতে থাকলে তাকে আর ততটা খারাপ মনে হয়না যতটা প্রথমে মনে হত।

স্যাটেলাইট চ্যানেলের সুবাদে হিন্দী নাটক সিরিয়ালে সাড়ম্বরে পূজা উদযাপনের দৃশ্য দেখতে দেখতে আমাদের কাছে এটা আর তেমন ভয়ঙ্কর ব্যাপার মনে হয়না, তাই আমরা বাস্তবে দেখতে যেতে পারি। আর বাস্তবে দেখতে দেখতে একসময় আমরা না হোক আমাদের সন্তানেরা পূজা করতে দ্বিধা করবেনা। আমরা যেন ভুলে না যাই শয়তান অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল। চূড়ান্ত পথভ্রষ্টতা একদিনে আসেনা।

# মুশরিকরা যখন পূজা করতে থাকে তখন আমরা চাক্ষুষ দেখতে না পেলেও আল্লাহর ক্রোধ তাদের উপর পড়তে থাকে। ঐ সময় ওখানে উপস্থিত থাকলে আপনিও তার সম্মুখীন হবেন নিশ্চিত।

উমার ইবনে খাত্তাব বলেছেন “তোমরা মুশরিক দের উপাসনালয়ে তাদের উটসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করনা। কারন সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে। (বায়হাক্বী)

# মুসলিমদের এতে অংশগ্রহণ মুশরিকদের তাদের ধর্মের ব্যাপারে সন্তুষ্ট ও গর্বিত করে তোলে। বুঝুন!!!!!

# ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন স্বচক্ষে দেখতে নিয়ে যাওয়া সবসময়ই দাওয়াতী কাজের একটি উপায়। আমি বহু ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টানের কাহিনীতে পড়েছি তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে মুসলিমদের জুমুআর সালাত আদায় করা দেখে।তাহলে বুঝুন, ওরা ওদের ধর্মের দাওয়াত দিচ্ছে, আর আপনি তা গ্রহণ করছেন।

# এর মাধ্যমে আপনি মুশরিকদের অনুকরণ,অনুসরণ করছেন।

# এর অর্থ তাদেরকে শিরক করতে আপনি নীরব সম্মতি বা সহযোগিতা করছেন। মুসলিম-হিন্দু যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে সহাবস্থান করছে তা বর্তমান সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ব্যাপার হলেও এর অর্থ হল-

>> আমাদের মুসলিমরা তাওহীদের গুরুত্ব বুঝেনা

>> তারা দাওয়াতী কাজে খুবই উদাসীন।

আর এর প্রত্যক্ষ ফলাফল হল মুশরিকদের ধর্মের অনেক আচারের আমাদের জীবনে অনুপ্রবেশ।

~
যে কাজ আমার অস্তিত্বের, জ্ঞানের, বিশ্বাসের বিপরীত তা আমাকে “সার্বজনীন” ধুয়া তুলেই গেলানো যাবে না। যারা সৃষ্টিকে স্রষ্টার স্থানে বসিয়ে অতিরঞ্জন আর বাড়াবাড়ির পশরা সাজায় তা সৃষ্টিজগত স্বীকার করতে পারে না। অন্তত হুশ-জ্ঞান যাদের আছে!
পাগল আর মাতালরাই এতে অংশ নিতে পারে।

মুশরিক হতে হলে ঈমান ছেড়ে দিতে হবে বিষয়টা এমন নয়। ঈমান এনেও মানুষ মুশরিক হতে পারে। “পুজো দেখতে গেলেই কি আমার ঈমান চলে যাচ্ছে” মার্কা প্রশ্নের উত্তরে আক্ষেপের সাথেই একটি আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে যেখানে আপনার স্রষ্টা আপনাকে বোঝাচ্ছেন, আক্ষেপ করছেন, “অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।” (Yusuf: 106)

মানে আপনি যে ভাবছেন আল্লাহকে বিশ্বাস করা, নবীদের আ. বিশ্বাস করা কিতাবে বিশ্বাস করা, ফেরেশতা, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম, ভাগ্যে বিশ্বাস করলেই মুসলমান হয় বিষয়্টা মোটেও তেমন না।

“ইচ্ছাকৃত সালাত ছেড়ে ‍দিলে কাফের হয়ে যায়।” জানেন তো!?
তো আমার প্রশ্ন, “সালত ছেড়ে দিলে কি ঐ বিষয়গুলোতে বিশ্বাস চলে যায়?
না যায় না। আসল সমস্যা হচ্ছে, আমরা একটি ভুলে বাস করছি আর তা হলো, বিশ্বাস করলেই মুসলিম হয়। বা মুখে উচ্চারণ করলেই মুসলিম হয় বিষয়টা মোটেও তা নয়।

বিশ্বাস হয়, মুখে স্বীকার করা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং তদানুযায়ী কাজ করার মাধ্যমে।
এই তিনটি কাজ করাকে বলে বিশ্বাস। তিনটির একটি অনুপস্থিত তো বিশ্বাস হলো না।

উপরের ৬/৭টি বিষয়ে বিশ্বাস করেও কিন্তু মানুষ হিন্দু, খ্রিষ্টান বা ইয়াহুদি হয়। তাহলে আপনি এইসবে বিশ্বাস করেই নিজেকে কিভাবে মুসলমান এবং তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ ঘোষনা করছেন?

মূল কথা এসবে বিশ্বাস করানোই ইসলামের মূল শিক্ষা নয় বরং তাওহীদ বা স্রষ্টার এককত্ব স্বীকার করা এবং এর বিপরীত সকল কথা, কাজকে বর্জন করা, ঘৃণা করা, মূলৎপাটন করাই ঈমানের প্রথম কাজ!

আর সেই কাজটা যদি হয় পূজা-হোলি-ফানুশ-বড়দিনে অংশ নেয়া তাহলে বলতেই হয়, আপনি মুসলিমদের মত ঠিক ঈমানদার হন নাই! বরং বিশ্বাসে শিরকেরও সংমিশ্রণ রয়ে গেছে।

Share This Post