কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

পর নারী পুরুষের সাথে মুসাফাহা

অনেকে বলেন ,এখন আধুনিক যুগ ১৪০০ বছর পূর্বের কথা বলে এখন লাভ নেই! আর পিছনে যাবেন না!!!!!! লাইফটাকে এঞ্জয় করুন!!!!!

আর চাচাত বোন, ফুফাত বোন, মামাত বোন, খালাত বোন, ভাবী, চাচী, মামী……… ইত্যাদি আত্মীয়দের সঙ্গে মুছাফাহ করা তো তাদের নিকট পানি পান করার চেয়েও সহজ কাজ। অথচ শরী’য়াতের দৃষ্টিতে কাজটা কত ভয়াবহ তা যদি তাঁরা একবার গভীরভাবে চিন্তা করত বা দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখত তাহলে কখনোই তাঁরা এ কাজ করতে পারত না।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
” নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল, যে তাঁর জন্য হালাল নয়” (ছহীহুল জামে হা/ ৪৯২১)

নিঃসন্দেহে এটা হাতের যিনা। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন,
” দুই চোখ যিনা করে, দুই হাত যিনা করে, দুই পা যিনা করে, আর লজ্জাস্থানও যিনা করে” (ছহীহুল জামে হা/ ৪১২৬)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পবিত্র মনের মানুষ দুনিয়ায় আর কেউ নেই, অথচ তিনি বলেছেন, ” আমি মেয়েদের সাথে মুছাফাহ করি না” (ছহীহুল জামে হা/২৫০৯) অন্য বর্ণনায়, রাসুল সাঃ বলেছেন,” আমি মেয়েদের হাত স্পর্শ করি না ” (ছহীহুল জামে হা/৭০৫৪)

এ প্রসঙ্গে মা আয়েশা (রাঃ) বলেছেন,
” আল্লাহর শপথ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর হাত কখনোই কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করে নি। তিনি কথার মাধ্যমে তাদেরকে বায়’আত করতেন ” ( ছহীহ মুসলিম ৩/১৪৭৯)।

অথচ আমাদের দেশের একশ্রেণীর ভণ্ড পীর নামক শয়তানরা মেয়ে, মহিলাদের সাথে মুছাফাহ করে!! তাদেরকে মুরিদ বানাতে তাঁরা খুবই উৎসাহী!!! তাদের হাত স্পর্শ করে বায়াত নেয়! অনেকে তো কুলাকুলি পর্যন্ত করে!!!!!!! (নাউজুবিল্লাহ!!!)।

অতএব হে মুসলিম ভাই ও বোন! এসব নোংরা মনের পীর, সূফী মারেফতি নামক ভণ্ডদের হতে সাবধান থাকুন।

আর আধুনিকতা তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে তাল মিলাতে যেয়ে যারা নিজেদের বন্ধুদের সাথে মুছাফাহ না করলে তাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দেয়ার হুমকি দেয়- তাঁরা যেন এ ব্যাপারে হুঁশিয়ার থাকে। এছাড়া জানা আবশ্যক যে, মুছাফাহ কোন আবরণের সাহায্যে হোক বা আবরণ ছাড়াই হোক দুই অবস্থাতেই অন্য পুরুষের সাথে মেয়েদের মুছাফাহ করা হারাম।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুক। সকল হারাম কাজ বর্জন করার তওফিক দান করুক। আমীন।

সূত্রঃ ‘কতিপয় হারাম কাজ যেগুলিকে মানুষেরা হালকা মনে করে অথচ তা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেকের ওয়াজিব, লেখক মুহাম্মাদ ছা-লিহ আল-মুনাজ্জিদ’ বইয়ের অনুকরণে।

Share This Post