কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

মৃত্যুর পূর্বে আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. এর ৪টি ওসিয়ত

মৃত্যুর পূর্বে আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. এর ৪টি ওসিয়ত
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
——————————
মুহাদ্দিস আল্লামা শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. মৃত্যুর পূর্বে চারটি ওসিয়ত করে গিয়েছেলন। সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হল:

◈ প্রথমত:

আমি আমার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, বন্ধু-বান্ধব ও যারা আমাকে ভালবাসে তাদের নিকট এই ওসিয়ত করছি, যখন তাদের কাছে আমার মৃত্যু সংবাদ পৌছবে তারা যেন আমার জন্য আল্লাহর নিকট রহমত ও মাগফিরাত কামনা করে দুয়া করে এবং আমার মৃত্যুতে কেউ যেন নিয়াহা বা উচ্চ আওয়াজে ক্রন্দন না করে।

◈ দ্বিতীয়ত:

যেন অনতি বিলম্বে আমাকে দাফন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কাফন-দাফনের প্রস্তুতির জন্য যাদেরকে না হলেই নয় তাদেরকে ছাড়া নিকটাত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবকে মৃত্যুর সংবাদ দিতে গিয়ে যেন দাফন কর্ম বিলম্ব না করে। আমাকে গোসল দেয়ার দায়িত্ব পালন করবে আবু আব্দুল্লাহ ইজ্জত খাযার এবং তিনি যাকে এ কাজে সহযোগিতার জন্য পছন্দ করবেন। তিনি আমার প্রতিবেশী এবং একান্ত অন্তরঙ্গ বন্ধু।

◈ তৃতীয়:

তিনি মৃত্যুর আগেই তার বাড়ির অদূরেই কবরের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেন। যেন গাড়িতে উঠিয়ে তার লাশ বহন করে দূরে নিতে না হয় কিংবা কবর দিতে আসা লোকজনকে গাড়িতে চড়ে লাশের সাথে যেতে না হয়। সেই সাথে এমন পুরনো গোরস্থানে যেন তাকে কবর দেয়া হয় যেটার ব্যাপারে আশা করা যায় যে, সেটা আর খুঁড়া-খুঁড়ি করা হবে না।

আমি যদি দেশের বাইরে মারা যাই তবে আমার দাফন কর্ম সমাধান করার আগে যেন দেশে আমার সন্তান সন্তান-সন্ততি বা অন্য লোকজনকে খবর না দেয়া হয়। অন্যথায় তারা আবেগের বশবর্তী হয়ে হয়ত এমন কিছু করবে যার কারণে আমার দাফন কর্ম বিলম্ব হয়ে যাবে।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, আমি যেন তার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করি যে, তিনি মৃত্যুর আগেই আমার পূর্বাপর সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন।

◈চতুর্থ:

আর আমার লাইব্রেরীর ব্যাপারে ওসিওয়ত হল, লাইব্রেরীর প্রকাশিত, অপ্রকাশিত, পাণ্ডুলিপি, আমার লেখা বা অন্যের লেখা সকল বই-পুস্তক মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াকফ করছি। যেন কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহীনের মানহাজের দিকে দাওয়াতের পথে এগুলো স্মৃতি হিসেবে অবশিষ্ট থেকে যায়। কারণ, আমি এককালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম। আল্লাহর নিকট আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে আমার মাধ্যমে ছাত্রদের উপকার করেছেন ঠিক সেই ভাবে আমার লাইব্রেরীতে যে সকল মানুষ জ্ঞানার্জনের জন্য আসবে তারাও যেন এগুলো থেকে উপকৃত হয়। আর আমি নিজেও যেন তাদের দুয়ার মাধ্যমে লাভবান হই।

رب أوزعني أن أشكر نعمتك التي أنعمت علي و على والدي و أن أعمل صالحاً ترضاه و أصلح لي في ذريتي إني تبت إليك و إني من المسلمين

“হে প্রভু, তুমি আমাকে এবং আমার পিতা-মাতাকে যে নেয়ামত দিয়েছ তার শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান কর। আরও তাওফিক দান কর এমন নেক আমল করার যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও। আমার উপকারের জন্যে আমার সন্তান-সন্ততিকে পরিশুদ্ধ করে দাও। আমি তোমার নিকট তওবা করলাম। নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুরা আহকাফ: ১৫)

২৭ জুমাদাল আওয়াল ১৪১০ হিজরি।
—————————
সংযুক্তি:
আল্লামা আলবানী রহ. এই নশ্বর জগত ছেড়ে আখিরাতের পথে যাত্রা করেন শনিবার, ২২ জুমাদাল আখেরা, ১৪২০ হিজরী, মোতাবেক ২ অক্টোবর, ১৯৯৯ খৃষ্টাব্দ।

মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৮ বছর।

যে দিন মারা যান সে দিনই ইশার সালাতের পরে তাকে দাফন দেয়া হয়।

তার নামাযে জানাযার ইমামতি করেন তার ছাত্র শাইখ ইবরাহীম শাকরাহ। জানাযায় তার ছেলেরা, আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র, বন্ধু-বান্ধব ও সাধারণ মানুষ সহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

লাশ দাফন করা হয় উমানের রাজধানী আল হামলান নামীয় পাহাড়ে নিজ বাড়ি সংলগ্ন পারিবারিক গোরস্থানে।

(আল্লাহ তাআলা শাইখ আলবানীকে অবরিত রহমত বর্ষণে সিক্ত করুন। আমীন)
শাইখ আলবানীর জীবনী পড়ুন এখান থেকে:
https://salafibd.wordpress.com/…/…/04/albani/comment-page-1/

Share This Post