কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

যে কোন ব্যক্তির জান্নাতে যাওয়ার জন্য ভালো কাজের পাশাপাশি ৪টি পাপ থেকে দূরে থাকা অতিব জরুরি

যে কোন ব্যক্তির জান্নাতে যাওয়ার জন্য ভালো কাজের পাশাপাশি ৪টি পাপ থেকে দূরে থাকা অতিব জরুরি-

১। শির্ক ।
২। বিদআত।
৩। হারাম ভক্ষন করা।
৪। মানুষের হক নষ্ট করা, সে যেভাবেই হোক।

শির্ক, বিদআত এবং হারাম ভক্ষন করা এমন পাপ যে, এই পাপীর কোন ইবাদাতই আল্লাহ্ কবুল করেন না। আর মানুষের হক নষ্ট করলে ঐ মানুষের হক ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত কিংবা তার কাছে ক্ষমা না নেওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না। যেহেতু এই বিষয় গুলো যেকোনো আমল গ্রহণ যোগ্য হওয়ার প্রধান অন্তরায় তাই এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা ও তার রাসুল (সাঃ)-এর জরুরি কিছু নির্দেশনা জেনে নিন-

— ১। শির্ক —

শির্ক শব্দের অর্থ অংশীদার তৈরি করা অর্থাৎ যখন আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে কিংবা আল্লাহ্‌র পাশাপাশি অন্যদেরকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিক দাতা, ইবাদত পাওয়ার যোগ্য মনে করা হয় তখন শরীয়তের পরিভাষায় এটাকে শির্ক বলা হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু অয়া তালা বলেন,
﴿ إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ ٧٢ ﴾ [المائ‍دة: ٧٢]
‘নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই’। {সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৭২}

— ২। বিদআত —

বিদআত শব্দের অর্থ নতুন “ধর্মের মধ্যে যে নবাবিস্কৃত ইবাদাত , বিশ্বাস ও কথার সমর্থনে কুরআন ও সুন্নাহের মধ্যে কোন দলীল মিলে না অথচ তা ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় তাকেই বিদ’আত বলা হয়। রাসূল (সাঃ) বলেন, “কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত(অর্থাৎ কবুল করা হবে না) (বুখারি- ২৬৯৭)।
আলী(রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূ্ল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বিদয়াত সৃষ্টি করে অথবা কোন বিদয়াতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ্‌, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয ও নফল কোন ইবাদত কবুল করা হবে না।(বুখারী কিতাবুল জিযিয়াহ- হাদিস নং ৩১৭২)

— ৩। হারাম ভক্ষন করা সেটা যে কোন উপায়ে হোক না কেন —

আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ ﴾ [النساء: ٢٩]
‘‘হে ইমানদারগণ! তোমরা অন্যায় ও অবৈধভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করো না। সূরা আল-বাকারা: ১৮৮।
রাসূ্ল (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি দীর্ঘপথ অতিক্রম করলো, বিক্ষিপ্ত চুল, ধুলা-বালিযুক্ত শরীর, ২ হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে দোয়া করতে থাকে আর বলতে থাকে- হে প্রভু! হে প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং হারাম দ্বারা শক্তি সঞ্চয় করা হয়েছে। তাহলে কিভাবে তার দোয়া কবুল করা হবে? (তিরমিজি- ২৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেসন)
উক্ত হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে খাদ্য, পানি, পোশাক হারাম থাকলে অর্থাৎ হারাম উপায়ে উপার্জিত হলে তার ইবাদত আল্লাহ্‌র কাছে কবুল হবে না বরং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম যা নিচের হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে-
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সে মাংশ কোনদিন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যার পুষ্টিসাধন হারাম খাদ্য দ্বারা হয়েছে। (দারেমি- হাদিস নং ২৬৭৪)
রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন, যে মাংশ হারাম খাদ্য দ্বারা প্রতিপালিত হবে, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত। (ত্বাবারানী/কবীর ১৯/১৩৬ সা’হীহুল্ জামি’, হাদীস ৪৪৯৫, হারাম ও কবিরা গুনাহ- শাইখ মুস্তাফিজুর রহমান মাদানি)

— ৪। মানুষের হক নষ্ট করা, সে যেভাবেই হোক —

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘‘তোমরা কি জান, নিঃস্ব কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কোন দিরহাম এবং কোনো আসবাব-পত্র নেই।’ তিনি বললেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে আসল নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাতের নেকী নিয়ে হাজির হবে কিন্তু এর সাথে সাথে সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারো (অবৈধরূপে) মাল ভক্ষন করেছে, কারো রক্তপাত করেছে, কাউকে মেরেছে। অতঃপর প্রত্যেক অত্যাচারিতকে তার নেকী থেকে পরিশোধ করা হবে। পরিশেষে যদি তার নেকীরাশি অন্যান্যদের দাবী পূরণ করার পূর্বেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাদের পাপরাশি নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’ (মুসলিম-৬৪৭৩, হাদিস একাডেমী)

পাপগুলো এতো নিকৃষ্ট যে, প্রথম ৩টা পাপে লিপ্ত থাকলে কোন ইবাদত ই কবুল হয় না আর ৪র্থ পাপে লিপ্ত বেক্তির অতি কষ্টের ইবাদতের সওয়াব অন্যকে দিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে (নাউজুবিল্লাহ)।
জান্নাত পেতে চাইলে এই পাপগুলো অন্তত কোনভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সেই ব্যাপারে ১০০ ভাগ সতর্ক থাকতে হবে আর অতিতের ভুলের কারনে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে এবং অন্যের মাল নিয়ে থাকলে ফিরিয়ে দিতে হবে, আল্লাহ তা’লা আমাদের পাপগুলো থেকে বেচে থাকার তাওফিক দান করুন, আমীন।

Share This Post