কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

স্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে বাবা-মাকে অসন্তুষ্ট করে জান্নাত হারাবেন না

রাসুল (সাঃ) বলেন- ঐ লোক হতভাগ্য! ঐ লোক হতভাগ্য! ঐ লোক হতভাগ্য! জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ), কার শানে একথা বললেন? নবী (সাঃ) বললেন, যে লোক পিতা-মাতার একজন কিংবা দুজনকে তাদের বৃদ্ধ বয়সে পেলো অথচ জান্নাতে দাখিল হল না (তাদের সেবা করার মাধ্যমে), সে হতভাগ্য। (মুসলিম-২৫৫১)
বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার সেবা করা, কথাটা শুনতে যতটা সহজ কাজে পরিনত করা কিন্তু এতটা সহজ নয়, বৃদ্ধ বয়সে মানুষ আবার ছোটদের মতো হয়ে যায়, বিভিন্ন বিষয়ে ছোটদের মতোই আবদার করে থাকে আর মুল পরীক্ষা তো ঐ সন্তানদের জন্য যাদের পিতা-মাতা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, বিছানায়ই প্রসাব-পায়খানা করতে হয়ে তখন পিতা-মাতার কতটা সেবা কে করে থাকে সেটাই পরীক্ষার বিষয়। আল্লাহ তা’লা যেন আমাদের এই পরিক্ষায় সফল করেন, আসলে আপনি পিতা-মাতার সাথে যেমন আচরণ করবেন আপনার সন্তানরাও আপনাকে তেমনটাই দিবে, নিজেই বিবেচনা করুণ বৃদ্ধ বয়সে আপনি কেমন আচরণ আশা করবেন আপনার নিজের জন্য। আর একটা সমস্যা হচ্ছে যদি আপনি দ্বীনই মেয়েকে বিয়ে না করে modern দ্বীন সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখে না এমন মেয়েকে বিয়ে করেন তবে তো আপনার দুনিয়া আখিরাত দুইটাই বরবাদ হবে কেননা ঐ স্ত্রী আপনাকে আপনার মায়ের সেবা করতে বিভিন্নভাবে বাধা দিবে তো দিবেই এবং নিজেও তাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিবে। আপনি না পারবেন স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে আর না পারবেন পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট করতে অথচ আল্লাহ তা’লার হুকুম-
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।
তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, বিনয়াবনত থাকো এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।(সূরা বানি-ইসরয়িল আয়াত ২৩,২৪)
সুতরাং বুঝতেই পারছেন পিতা-মাতার সাথে কতটা আন্তরিক ব্যবহার করতে হবে অবশ্য কিছু পিতা-মাতা তাঁর ছেলের বউয়ের সাথে নিজের মেয়ের মত আচরণ করে না এবং ছেলেকে হয় স্ত্রী না হয় মা এধরণের সমস্যার মধ্যে ফেলে দেয়, এমনটা করা উচিত নয় আর স্ত্রীর যদি কোন অন্যায় না থাকে তবে তাকে পিতা-মাতার কথা শুনে তাঁর উপর জুলুম করা উচিত নয় কেননা আল্লাহ তা’লা কোন জুলুমকে পছন্দ করেন না সেক্ষেত্রে ছেলের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পিতা-মাতাকে এবং স্বামীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে স্ত্রীকে মেনেজ করার চেষ্টা করতে হবে, নিঃসন্দেহে সেটা কঠিন কিন্তু করতে হবে।

Share This Post